ওসি ফরিদ উদ্দিনের যোগদানের এক বছরে পাল্টে দিলেন সিরাজদিখানের চিত্র

19

আজিম হাওলাদার,সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি ::

থানা মানেই টাকা। টাকা ছাড়া থানায় কোনো কাজ হয় না। এমন ধারণা জনসাধারণের। তবে যোগদানের এক বছরেই জনসাধারণের সেই ধারণা পাল্টে দিয়েছেন সিরাজদিখান থানার অফিসার ইনচার্জ মো.ফরিদ উদ্দিন।

এ থানায় সেবা নিতে আসা লোকজন টাকা ছাড়াই এখন সাধারণ ডায়েরি (জিডি), অভিযোগ ও মামলা লেখা বা অন্তর্ভুক্ত করতে পারছেন। এর কারনে পুরো উপজেলায় স্বস্তির নিশ্বাষ সাধারণ মানুষের।
জানা যায়, ‘পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ’ এ শ্লোগানকে বাস্তবে রূপ দিয়ে আইন শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি, সামাজিক অবক্ষয়, যৌতুক ও বাল্য বিয়ে রোধ, মাদক ও জঙ্গীবাদ বিরোধী জনমত সৃষ্টিমূলক কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন সর্বদা। ফলে খুব অল্প সময়েই সাধারণ মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।
পুলিশ বাহিনীতে অনেক সৎ ও নিষ্ঠাবান কর্মকর্তা রয়েছেন। যারা জীবন বাঁজি রেখে সততার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। তাদেরই একজন সিরাজদিখান থানার বর্তমান ওসি।

সে যোগদানের আগে সফল ভাবে শ্রীনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হিসেবে দায়িত্ব পালন করে গত ০১.০৯.১৮ সালে সিরাজদিখান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে যোগদান করেন। এরপর থেকে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে কঠিন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছেন।
যোগদানের পর থেকে থানার চৌকস অফিসারদের নিয়ে রাত দিন কঠোর পরিশ্রম করে, নিজের সাহসী পদক্ষেপ আর সুকৌশলে মাদকপাচার, জাল টাকা ব্যবসায়ী, অস্ত্র, চোর, ডাকাত, বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারীকে গ্রেফতারে বিশেষ অবদান রেখেছেন। যার ফলে পুলিশ বিভাগের প্রতি সিরাজদিখানের জনগণের স্বস্তির আস্থা ও বিশ্বাসের সৃষ্টি হয়েছে।
এ কারণে ক্রমশ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটছে বলে জনগণের দাবি। তাছাড়া মাদক ব্যবসা, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, চাঁদাবাজি সহ আইনশৃঙ্খলা পরিপন্থী কার্যক্রম দমনে, পারদর্শীতা দেখিয়েছেন তিনি। ঘুষ-দুর্নীতি এমনকি থানা এলাকার এক শ্রেণির দালাল চক্রের প্রভাবকে গুড়িয়ে দিয়ে সাধারণ জনগণের আস্থা ফিরিয়ে এনেছেন। এসবই মাত্র কয়েক মাসে অর্জন করতে পেরেছেন নিজের সততা আর কর্মের গুণে। এছাড়া থানার ব্যাপক উন্নয়ন কাজ করেছেন। পুলিশ জনগণের বন্ধু, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব বিশেষত্ব পুলিশের। এই সফলতার কারনে বিভিন্ন সম্মাননা পদক লাভ করেন তিনি।

আরো জানা যায়, যোগদানের পর থেকে এই পর্যন্ত মোট বিভিন্ন আইনে ৩২৯টি মামলা রুজু হয়েছে। তার মধ্যে মাদক মামলা ১৬৭ টি। ইয়াবা উদ্ধার ৯ হাজার ৭শ পিছ ,৬ কেজি ৫৭০ গ্রাম গাঁজা, ১৩৫ লিটার মদ, ১৬৬ ক্যান বিয়ার, হিরোইন ২৮ পুড়িয়া,২৭২ বোতল বিদেশি ওষুধ, ৭ হাজার জাল টাকা, ওয়ারেন্টভুক্ত মামলা ৩২৯, নিয়মিত মামলা ৩৭৫। আইন শৃঙ্খলা অভিযান প্রতিদিন অব্যাহত রেখেছেন।

বালুচর ইউপি সদস্য বলেন, প্রায় অর্ধ শতাব্দী ধরে চলে আসছিল বালুচরে রক্তক্ষয়ি সংঘর্ষ, বর্তমান ওসি আসার পর তা বন্ধ হয়েছে।

বয়রাগাদী ইউপির ৮নং ওয়ার্ড সদস্য মো. ইয়াসিন বলেন, ওসি ফরিদ উদ্দিন যোগদান করার পর চৌকস পুলিশ কর্মকর্তা হিসাবে সুপরিচিত হয়েছেন। অতি সল্প সময়ে সিরাজদিখানে অপরাধ দমনে তার ভূমিকা সর্বমহলে বেশ আলোচিত। উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে বাল্যবিয়ে, মাদক ও তথ্য- প্রযুক্তির বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে প্রায়ই তাকে সচেতনমূলক আলোচনা সভা করতে দেখা গেছে।
উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মঈনুল হাসান নাহিদ বলেন, উপজেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও জন প্রতিনিধিদের সাথে বর্তমান ওসির সু-সর্ম্পক বজায় থাকায় তিনি সকল মহলের সহযোগিতা পাচ্ছেন। পুলিশ যে জনগনের বন্ধু বর্তমান ওসিকে দেখে বুঝা যায়। তিনি যোগদান করার পর আইন শৃঙ্খলার উন্নতি ঘটেছে। আইন শৃঙ্খলা বেশ নিয়ন্ত্রনে রাখায় তাকে সাধুবাদ জানাই।

আপনার মতামত দিন