কুটির শিল্পর নিপূণ কারিগর ফুলবাড়ীর কান্তেশ্বর বর্মণ

রতি কান্ত রায়,কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি::
আবহমান গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যর ধারক কুটির শিল্প। প্রাচীনকাল থেকে আজ অবধি গ্রামীণ জীবন জীবিকায় কুলা, ডালি, ডুলি, ঝাড়ু, শিঁকে, নাকরী, ঘুটনি, হাতপাখা, ঘোরপা, কৃষকের ঝাপি, পিটুয়া, ধারাই, সেমতি, কবুতরের খোপ, হাঁস মুরগীর খোয়ারা, জেলেদের মাছ ধরার টেপাই, ডারকি, চ্যাচলা, বানা, যাকোই, ঠুসি, খলাই ইত্যাদির অবদান অনেক। শিল্পীর হাতের কারুকাজে পাকা বাঁশ দিয়ে তৈরি হয় দৃষ্টিনদন ও বাংলার গ্রামীণ জীবনের নিত্য প্রয়াজনীয় এসব পণ্য।
আধুনিক যান্ত্রিকতার যুগেও এ শিল্প টিক আছে শিল্পীদের নিরলস পরিশ্রম আর সংগ্রামী মনোভাবের কারণে। এমনই একজন সংগ্রামী মানুষ কান্তেশ্বর বর্মণ (৫৫)।
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজলার বড়ভিটা ইউনিয়নের সেনের খামার গ্রামে তার বসবাস। দুই ছেলে এক মেয়ে আর স্ত্রীকে নিয়ে তার পরিবার। জীবিকার তাগিদে ২০ বছর আগে তিনি বেছে নেন এই পেশা।
এতে যা আয় করতেন তা দিয়ে সংসার চলতো না। অভাবের কারণে একসময় বন্ধ হয় যায় ছেলে মেয়ের লেখাপড়া। তাই উপার্জন বাড়াতে ছেলে আর স্ত্রীকেও যুক্ত করেন এ কাজে।পরিবারের সকলে মিলে তারা বাঁশ দিয়ে তৈরি করেন নিত্য প্রায়াজনীয় এসব পণ্য।
এগুলা বিক্রির দায়িত্ব  পড়ে ছোট ছেলে শ্রীকান্ত বর্মণের কাঁধে। শ্রীকান্ত বর্মণ জানান, প্রতি হাট ৪ থেকে ৫ হাজার টাকার পণ্য বিক্রি হয়। এছাড়াও বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকাররা  এসব পণ্য কিনে নেয়।
পাইকারদের মধ্যে রয়েছে ফুলবাড়ীর ছাইফুর, গংগারহাটের দুলাল, বুলু মিয়া, নেওয়াশী বাজারের মজিবর, আমজাদ, গাগলা বাজারের রতন রায়, কচাকাঁটার ফুল মিয়া, কাঁঠালবাড়ীর মুকুল।
শ্রীকান্ত রায় আরও জানান, হাট ও পাইকারদের চাহিদা পূরণর জন্য নিজদের তৈরি পণ্যের পাশাপাশি বগুড়ার মহাজন, উলিপুরর মাইদুল, মনু মিয়া, যাত্রাপুরের আজিজার, আতি মিয়া, দুর্গাপুরের হাকিম ও নাগেশ্বরীর সুজনের কাছ থেকে তৈরি পণ্য ক্রয় করন তারা। আয় -ব্যয়ের কথা জানত চাইল শ্রীকান্ত রায় জানায়, প্রতিমাসে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকার পণ্য বিক্রি হয়। আর পণ্য তৈরি ও আমদানীকৃত  খরচ হয় ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা।
মাস শেষে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা রোজগার হয়। এই রোজগারে সংসারের চাহিদা মেটাতে হিমশিম খেতে হয় বলে জানান তিনি। এছাড়া আর্থিক সংকটের কারণে বারবার অল্প অল্প করে পণ্য আমদানী করায় পরিবহন ব্যয় অনেক বেড়ে যায়। এ কারণে লাভ হয় অনেক কম। পর্যাপ্ত পুঁজি থাকলে তাদের আয় অনেক বেড়ে যেত। কান্তেশ্বর বর্মণ জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্বপরিবারে এ পেশায় যুক্ত থাকায় তারা অন্য কোন কাজ জানে না।
তাই শত কষ্টেও এ পেশাকেই আঁকড়ে ধরে আছেন। তিনি তাদের কুটির শিল্পের এ পেশাকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা প্রত্যাশা করনে।

আপনার মতামত দিন