কোন মতে টিকে আছে রোহিতপুরী লুঙ্গি

10

সামসুল ইসলাম সনেট, কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি::

একটা সময় ছিলো রোহিতপুরী লুঙ্গি নিজ এলাকা ও তার আশপাশের জেলা উপজেলা গুলোর চাহিদা পুরণ করে দেশ-বিদেশে রপ্তানিও হতো। তবে এখনো কিছু হয় যা শুধু নামে মাত্র! পনেরো বিশ বছর আগেও রোহিতপুর, উত্তর ও দক্ষিণ রামেরকান্দা,কামার্তা, গোয়ালখালী, নারায়ণ পট্রি ও তার আশপাশের এলাকায় প্রায় হাজারখানিকের মত তাঁত অবশিষ্ট ছিলো। যা একসময় ছিলো তিন থেকে চার হাজারের মত। প্রতিটি বাড়ীতিই ছিলো একাধিক তাঁত, রোহিতপুর ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে বাচ্চাদের ঘুম ভাঙতো তাঁতের খটখট শব্দে। সুতা আর মারের গন্ধ ছড়িয়ে পড়তো পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতেও। তবে তা তাঁতশিল্পীদের কাছে গন্ধ নয় সুভাষই মনে হতো। যা আজ শুধুই কল্পনা

হালে রোহিতপুরের নতুন সোনাকান্দায় ঢাকা বিসিক শিল্পনগরী ও লাখিরচরে পাটজাত শিল্পকারখানা গড়ে উঠলেও বহু আগেই রোহিতপুরী লুঙ্গি কে কেন্দ্র করে রোহিতপুর হয়ে উঠেছিল ছিলো শিল্পনগরী। এই একাকার ৯০ থেকে ৯৫ % লোক কোন না কোন ভাবে জড়িত ছিলো এই পেশার সাথে।

কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি, ইউরোপ সহ উন্নত দেশগুলো থেকে সুতা আমদানি বন্ধ, ভারত থেকে উচ্চ দামে নিন্ম মানের সুতা আমদানি, রঙের মূল্য বৃদ্ধি, বেশি লাভের আশায় শ্রামিকরা প্রবাসে বা অন্য পেশায় চলে যাওয়া সর্বপরি সরকারের পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে বিলিনের পথে দেশের সেরা রোহিতপুরী লুঙ্গি।

যার অক্লান্ত পরিশ্রমে আজো টিকে আছে রোহিতপুরী লুঙ্গি সেই শরিফ লুঙ্গী কারখানার তত্ত্বাবধায়ক মো. রফিকুল বলেন, ‘রোহিতপুরী চার পিস একথানের একথান লুঙ্গি তৈরি করতে খরচ হয় তিন হাজার টাকা আর এই চার পিস লুঙ্গি বাজারে বিক্রি হয় আরো কম দামে । সুতাসহ আনুসাঙ্গিক সব কিছুর দাম বেড়ে যাওয়ায় এ ব্যবসা ছেড়ে দিচ্ছেন অনেক তাঁতী। জনাব শরীফ আমার সংবাদ প্রতিনিধি কে বলেন, দেশে বড় দুটি দলের তাঁতী লীগ, তাঁতী দল নামে দুটি সংগঠন আছে যার কেউই তাঁতী বা তাঁত সংশ্লিষ্ট না। তাই তাঁতশিল্প নিয়ে তাদের মন তাতে না। এছাড়াও ভারত থেকে কমদামে লুঙ্গি আমদানী, আধুনিক মেশিনে কম সময় ও খরচে বেশি লুঙ্গি উৎপাদন এর ওপর প্রভাব পড়েছে। বাব দাদার পেশা বলে আজো ধরে রেখেছি এই তাঁত শিল্প টা কে।

রামেরকান্দা মাদ্রাসা এলাকার বাসিন্দা বর্তমান মুদি দোকানদার মনির হোসেন বলেন, আমাদের বাব দাদার পেশা এই তাঁত । নানা কারণে এই শিল্প আজ বিলুপ্ত বলা চলে। শরীফের ৭টি ও ওমর আলীর ১টি সহ মোট ৮টি তাঁত নিয়ে কোন মতে টিকে আছে শতবছরের ঐতিহ্য রোহিতপুরী লুঙ্গি। পাবনা, নরসিংদীর বাবুর হাট, ঢাকার জয়পাড়া, শিকরামপুর ও সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর এলাকায় পাওয়ারলুমের তৈরী লুঙ্গি তে আদি রোহিতপুরী স্টিকার ব্যবহার করে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে। তাই সরকারের সহযোগী পেলে রোহিতপুরে আবার গড়েও উঠতে পারে তাঁত পল্লী। রোহিতপুর ফিরে পেতে পারে তার হারানো সুনাম, দেশবাসীও পড়তে পারবে ৮০/৮০ সুতোয় তৈরি অদি রোহিতপুরী লুঙ্গি

আপনার মতামত দিন