দেশী ফল দেউয়া বিলুপ্তির পথ ‘

22
রতি কান্ত রায়, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি ::
দেশীয় ফলের মধ্যে অন্যতম একটি ফল হচ্ছে দেউয়া  ফল।।কুড়িগ্রাম জেলার একটি আঞ্চলিক ফল।  এর  আঞ্চলিক নাম  হচ্ছে দেউয়া  বা দাউয়া ফল।কুড়িগ্রামে জেলায় একসময়  প্রচুর পরিমানে দেখা মিলতো এই   ফলের।
এখন এই ফল গ্রামবাংলা থেকে আস্তে আস্তে হারিয়ে  যাচ্ছে। পল্লী-গ্রামবাংলার আনাচে-কানাচে প্রাকৃতিকভাবে জম্ম নিত অসংখ্যা এই  ফলের গাছ।
প্রধান ফল না হলেও গ্রামবাংলায় খুব পরিচিত  একটি  ফল।এইসব দেউয়া বা দাউয়া ফলে রয়েছে ভিটামিন সি, খনিজ ও  ক্যালসিয়াম।কাঁঠাল ও দেউয়া ফল একই গুনের অন্তর্ভুক্ত।
দেউয়া গাছ ২০-২৫ ফুট উঁচু হয়।এর ছাল ধুসর বাদামি রঙ্গের হয়ে থাকে।গাছের ভেতর সাদাটে কষ বা অাটা থাকে।  টক মিস্টি স্বাদের এই ফলটি গ্রামবাংলার মানুষের কাছে খুবই প্রিয় ।
বর্ষাকালে গ্রামঞ্চলে গাছগাছালিতে কাপড়ে অাচ্ছদিত এই ফলটি পাওয়া যায়। জলবায়ুর পরিবর্তন ও নির্বিচারে বৃক্ষ নিধনের কারণে হারিয়ে যেতে বসেছে।  এ ফল দুই থেকে তিন ইঞ্চি পর্যন্ত হয়ে থাকে,এই ফলের ওজন ২০০ থেকে ৩০০গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে।  দেউয়া ফল পাকলে হলুদ রং ধারণ করে।ফলগুলো পাকলে সারা গাছে অপরুপ শোভা ছড়ায়।
পল্লীগায়ের সবার দৃস্টি অাকর্ষণ করে থাকে।  এই ফলগুলির মধ্যে প্রতিটি  ফলের মধ্যে২৫ থেকে ৩০টি করে অাটি থাকে।ভিতরের আটি ফেলে দিতে হয়।এই  ফল অনেকটা কাঁঠালের যৌগিক ও গুচ্ছ ফলের বৈশিষ্ট্য বহন করে।  ভেতরের স্বাস লালচে রঙের হয়ে থাকে।
ফলের ভেতর কাঁঠালের মত কোয়া এবং প্রতিটি কোয়ার মধ্যে একটি করে আটি থাকে।  দেউয়া গাছে মার্চ মাসে ফুল আসতে থাকে এবং অাগষ্ট মাসে ফল পাকতে শুরু করে।
শহরের মানুষদের কাছে এই ফল সুপরিচত না হলেও গ্রামের মেঠো পথের ধুলোমাখা লোকগুলোর কাছে খুবই পরিচিত এবং এই ফল প্রিয়। এই গাছটি বন-জঙ্গলে বেশি পরিমানে হয়ে থাকে।অযত্নে বেড়ে ওঠে এই গাছ। দেউয়া ফল কোষ্ঠকাঠিন্য ও গ্যাসের কারণে পেঠব্যথা কমাতে সাহায্য করে।
এ ফলের মধ্যে থাকে পটাশিয়াম যা রক্ত চলাচলে সাহায্য করে আর হৃদ রোগ ও ষ্টৃোকের ঝুঁকি কমায়।
শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমায় এই ফল।বিদেশ থেকে আসা নানা কেমিক্যাল মিশ্রিত ফলের ব্যাবহারের কাছে এসব পুষ্টিগুন সম্পন্ন দেশীয় ফল হারিয়ে যেতে বসেছে।
উপেজলাকৃষি অফিসার মাহাবুবুর রশীদ বলেন,দেশি এ ফল এখন খুব কম দেখা যায়।আমরা কৃষি বিভাগ থেকে পুষ্টিগুনসম্পন্ন এ ফল চাষে উদ্ধধ করছি।এ ফলটি বানিকজিকভাবে চাষের মধ্যে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।

আপনার মতামত দিন